ফোন: +88-02-55088225
ইমেইল: info@challengesbd.com
Opening: ananın amı hours
EN | BN
#
  • Admin
  • Apr 16, 2021

মনক্রিও দ্রব্যের অপব্যবহার

মাদকাসক্তি রোগঃ
মাদকাসক্তি এমন একটি রোগ যার চিকিৎসা করা না হলে এটি একজন আসক্ত ব্যক্তিকে শারীরিক ও সামগ্রিকভাবে মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। আসক্ত ব্যক্তির সাথে তার পরিচিত সবার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। তাই যত দ্রুত সম্ভব মাদকাসক্তির জন্য চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন।
একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে একজন চিকিৎসক কোন বিশেষজ্ঞ বা আসক্তি বিষয়ক প্রোগ্রামের সাহায্য নেয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।
ডিএসেম ৫ এর মতামত অনুযায়ী, যে কোন মাদকদ্রব্যকে ১০টি ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
অ্যালকোহল বা মদ
ক্যাফিন
ক্যানাবিস বা গাঁজা
হ্যালুসিনোজেন (ফেনিসাইক্লিডাইন বা একইভাবে কাজ করা অ্যারাইলসাইক্লোহেক্সিলামাইন, এবং এলেসডি এর মতো হেলুসিনোজেন)
ইনহেলেন্ট বা শ্বসন করে/ নিশ্বাসের সাথে নিতে হয় এমন মাদক
অপিওয়েড বা আফিম
সিডেটিভ বা ঘুমের ঔষধ
হিপনোটিক/এ্যঞ্জিওলিটিক বা সম্মোহক
স্টিমুলেন্ট বা উত্তেজক (অ্যাম্ফেটামিন রয়েছে এরকম মাদক দ্রব্য, কোকেন ও অন্যান্য)
টোবেকো বা তামাক
অন্যান্য

বিশ্লেষণ সাপেক্ষে মাদকের বেশ কয়েকটি ভাগ চিহ্নিত করা গেলেও, কিছু মাদক দ্রব্য আছে যেগুলো অজানা রয়ে গেছে। এগুলো আসক্তি রোগ তৈরির ভিত্তি হতে পারে।
মাদক গ্রহণের পর মস্তিষ্কে অনুভূতিগুলো এতটাই তীব্র হয় যে, একজন আসক্ত ব্যক্তি পুনরায় মাদক গ্রহণ করার জন্য অন্যান্য যে কোন কাজকে অগ্রাহ্য করে থাকে।
প্রতিটি মাদকের ফারমাকলোজিকাল পদ্ধতি আলাদা। কিন্তু প্রতিটি মাদকই একজন আসক্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কে আনন্দের অনুভূতি সক্রিয় করে। এই বিশেষ অনুভূতি “হাই” হিসাবে পরিচিত।
ডিএসএম-৫ এর স্বীকৃতি অনুযায়ী জানা যায়, আসক্তি রোগের ঝুঁকি সবার মাঝে সমানভাবে কাজ করে না। যাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম, মাদকের সংস্পর্শে আসা মাত্রই তাদের মাদক গ্রহণের সম্ভাবনা বেশি থাকে।


মাদকাসক্তি রোগের দুইটি ভাগ রয়েছেঃ
মাদক ব্যাবহার জনিত রোগ – বিভিন্ন সমস্যা হবার পরেও মাদক গ্রহণ বন্ধ না করার ফলে ব্যক্তির মাঝে যে লক্ষণগুলো তৌরি হয় সেগুলোর নিদর্শন।
মাদক দ্বারা পরিচালিত রোগ - মাদক সৃষ্ট ব্যাধি, যার মধ্যে নেশা, অপসারণ এবং অন্যান্য মাদক/ চিকিৎসার কারণে সৃষ্ট মানসিক ব্যাধি রয়েছে, সেগুলো মাদক সৃষ্ট ব্যাধির পাশাপাশি বিস্তারিতভাবে দেয়া হল
মাদক সৃষ্ট ব্যাধির ব্যাপ্তি মাদক গ্রহণের ফলে সৃষ্টি হওয়া নানাবিধ সমস্যা থেকে শুরু করে ১১টি ভিন্ন ভিন্ন অংশে প্রসারিত:
অতিরিক্ত পরিমাণে বা লম্বা সময় ধরে মাদক গ্রহণ করতে থাকা।
মাদক নেয়া কমাতে বা বন্ধ করতে চাইলেও, না পারা।
মাদক নিতে এবং ছাড়তে প্রচুর সময় ব্যায় করা।
মারাত্মক নেশার টান হওয়া।
মাদক ব্যবহারের কারণে কর্মক্ষেত্র বা পড়াশুনা ঠিকভাবে চালিয়ে যেতে না পারা।
ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোতে নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হলেও নেশা চালিয়ে যাওয়া।
মাদক ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক, পেশাগত বা বিনোদনমূলক কার্যক্রম ছেড়ে দেয়া।
বিপদ হওয়ার পরেও বারবার মাদক সেবন করতে থাকা।
শারীরিক বা মানসিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও মাদক গ্রহণ করা – এটা জেনেও যে নেশার কারণে সমস্যাগুলো আরও গুরুতর হতে পারে।
মাদকের প্রভাবে সন্তুষ্ট হতে না পারা এবং মাদক সেবনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়া।

মাদক ব্যবহার রোগের তীব্রতাঃ
সনাক্ত করা উপসর্গগুলোর উপর ভিত্তি করে, ডিএসএম-৫ চিকিৎসকরা, মাদক ব্যবহার রোগের সমস্যা কতোটা গুরুতর বা তীব্র তা নির্দিষ্ট করার অনুমতি দিয়ে থাকে।
দুই বা তিনটি লক্ষণ হালকা\অল্প মাদক ব্যবহার ব্যাধি নির্দেশ করে।
চার বা পাঁচটি লক্ষণ মাঝারি পর্যায়ের মাদকের ব্যবহার নিশ্চিত করে।
এবং ছয়টি বা তার অধিক উপসর্গ মারাত্মক মাদক ব্যবহার ব্যাধি নিশ্চিত করে।