এই প্রক্রিয়াটিতে মাদক ব্যবহার এবং মাদকের সাথে সম্পৃক্ত মানসিক রোগের জন্য চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে।
কোন রকম পর্যাপ্ত চিকিৎসা ছাড়া, একজন ব্যক্তি যখন মানসিক কোন সমস্যায় ভুগতে থাকে, তখন সমস্যার উপসর্গগুলো সহনীয় করে তোলার জন্য, ব্যক্তি মাদক বা অ্যালকোহলে আসক্ত হয়ে পরতে পারে।
চিকিৎসার ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয়ে থাকে সহ-সংঘটিত ব্যাধি।
যখন এই দু’টো রোগ একজন ব্যক্তির মাঝে একই সাথে দেখা যায় তখন, শুধুমাত্র মানসিক অথবা কেবল আসক্তি রোগের চিকিৎসার থেকেও গুরুতর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় অধিক বিক্লপ ব্যবস্থার।
মাদক অপব্যবহারের লক্ষণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপসর্গগুলো এই দু’টো অবস্থাকেই আরও খারাপ করে তুলতে পারে।
মাদক ও অ্যালকোহলের অপব্যবহার ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটায়। শারীরিক অবনতির বিভিন্ন প্রভাব রয়েছে, যেগুলো এই ধরনের রোগীর চিকিৎসাকে কঠিন করে তুলে।
সহ সংঘটিত ব্যাধি আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
যাদের অ্যাঞ্জায়টি ডিজঅর্ডার, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া ইত্যাদি রয়েছে কিন্তু যথাযথ চিকিৎসা করা হয়নি, সে সকল ব্যক্তির মাদক বা অ্যালকোহল অপব্যবহার করার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি।
যারা অ্যাঞ্জায়টিতে ভুগে তারা, সাধারণ যে কোন মানুষের থেকে ড্রাগ বা অ্যালকোহল অপব্যবহারের ক্ষেত্রে দিগুণ ঝুঁকিতে থাকে।
সহ সংঘটিত ব্যাধির লক্ষণ ও উপসর্গঃ
সহ সংঘটিত ব্যাধির বেশ কয়েকটি সংমিশ্রণ রয়েছে। প্রতিটি সংযোগ আলাদা আলাদা লক্ষণ ও উপসর্গ প্রদর্শন করে থাকে। এবং প্রতিটি উপসর্গের চিকিৎসা পদ্ধতিও ভিন্ন হয়ে থাকে। ভাগ্যক্রমে, মানসিক স্বাস্থ্য ক্লিনিক সহ সংঘটিত ব্যাধিগুলো সনাক্ত করতে এখন মাদক শনাক্তকরণ পরীক্ষা করে থাকে।
সহ সংঘটিত মাদকাসক্তি রোগের উপসর্গগুলো নিন্মোক্ত হতে পারেঃ
আচার-আচরণের হঠাৎ পরিবর্তন
সমাজ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া
বিপজ্জনক পরিস্থিতেও মাদক গ্রহণ করতে থাকা
ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ
নিয়ন্ত্রনহীনভাবে নেশা চালিয়ে যাওয়া
মাদকের প্রভাবে সন্তুষ্ট না থাকা এবং ফলস্বরূপ নেশার মাত্রা এবং চাহিদা বৃদ্ধি
নেশা প্রত্যাহারজনিত সমস্যা তীব্র যন্রনাদায়ক হওয়া
আসক্ত ব্যক্তির তীব্র নেশার টান থাকা এবং বিশ্বাস করতে শুরু করা যে তার স্বাভাবিক কাজ করতে হলে মাদক অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে।
মানসিক স্বাস্থ্য অবস্থার উপসর্গগুলো ব্যক্তি সাপেক্ষে বিভিন্ন রকম হতে পারে। তবে, বিভ্রান্তিকর চিন্তা-ভাবনা, মনোসংযোগ করতে না পারা, এবং আত্মহত্যার প্রবণতা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
সহ সংঘটিত ব্যাধির এই উপসর্গগুলো যদি কোন ব্যক্তি প্রদর্শন করতে শুরু করে তাহলে যত দ্রুত সম্ভব সেই ব্যক্তিকে চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
সহ সংঘটিন ব্যাধির জন্য কার্যকর চিকিৎসাঃ
এই রোগের রোগীদের প্রয়োজন অবিরত, নিরবিচ্ছিন্ন যত্ন এবং সংগঠিত চিকিৎসার পরিকল্পনা। মাদক বা অ্যালকোহল আসক্তির তীব্রতার উপর ভিত্তি করে, এই রোগের রোগীদের প্রাথমিকভাবে একটি মেডিকেল ডিটক্স সুবিধায় থাকতে হতে পারে।
মেডিকেল ডিটক্স সেন্টারগুলোতে চিকিৎসকেরা নিরাপদে মাদক ও অ্যালকোহল থেকে সরে আসতে সহায়তা করবে। সাধারণত, সহ সংঘটিত ব্যাধি রয়েছে এমন রোগীদের মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।
পুনর্বাসনের সময়, রোগী প্রায় ২৪ ঘন্টাই চিকিৎসকের সেবা পেয়ে থাকে। রোগীরা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য অবস্থা এবং মাদকাসক্তি, উভয় ক্ষেত্রেই কাস্টমাইজড চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে।
পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো রোগীর মানসিক সুস্থতাজনিত অসুস্থতার জন্য থেরাপি, ঔষধ, সহায়তা দিয়ে থাকে।
সহ-সংঘটিত ব্যাধির চিকিৎসা চলছে এরকম রোগীদের জন্য, ইন-পেশেন্ট প্রোগ্রাম শেষে, সহায়ক আবাসনের প্রয়োজন হয়। সহায়ক আবাসন রোগীদের পুনরায় পতন নিরাপদে এড়াতে এবং ব্যক্তিকে নিজকে পরিবর্তন করতে সহায়তা করে থাকে।
যে সব রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং মাদকাসক্তি, দুটোই রয়েছে, তাদের মাদক বা অ্যালকোহলে পুনরায় পতন ঠেকাতে বা মানসিক সমস্যাগুল যেন আবার দেখা না দেয় সেজন্য, নিরন্তর যত্নের প্রয়োজন।
দ্বৈত চিকিৎসার সাথে জড়িত জটিলতাগুলো পরিচালনা করার জন্য কগনেটিভ বিহেভিরিয়াল থেরাপি, গ্রুপ ও ফ্যামিলি থেরাপি বেশ কার্যকর।
মাদকাসক্তি ও মানসিক সাস্থ্য সমস্যাগুলো হল চলমান ব্যাধি। এর জন্য প্রয়োজন একীভূত যত্নের। যদিও এই ধরণের চিকিৎসা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তবে, একজন ব্যক্তির পক্ষে রোগের উপসর্গগুলো খুঁজে বের করে সেগুলো নিয়ন্ত্রন করার মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ সুস্থ্য জীবন পাওয়া সম্ভব।
আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি সহ সংঘটিত ব্যাধি তে ভুগে থাকে তাহলে অবিলম্বে এমন একজন থেরাপিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন যার এই ব্যাধির চিকিৎসায় অভিজ্ঞতা রয়েছে।